আপনার হেরে যাওয়ার গল্পটাও একদিন ভাইরাল হবে (Success depends on your positive action)

আপনার হেরে যাওয়ার গল্পটাও একদিন ভাইরাল হবে যদি আপনি কিছু করে দেখাতে পারেন। আপনার লুঙ্গিপরা ছবিটাও ব্র‍্যান্ড হয়ে যাবে যদি আপনি সাকসেস হতে পারেন। ডিএসএলআর ক্যামেরায় তোলা দামি ব্লেজারের ছবিটাতে ধুলো পড়ে যাবে, মুছার কেউ থাকবেনা যদি জীবনে আসলেই কিছু করে দেখাতে না পারেন।

“স্কুল লাইফে কখনো ইংরেজিতে পাশ করতে না পারা ছেলেটি এখন ইন্টারন্যাশনাল ইংরেজি পত্রিকার পপুলার কলামিস্ট”, এটা শুনে আপনিও কি ইংরেজিতে ফেল করতে চায়বেন? “সবচেয়ে কম জিপিএ নিয়ে অনার্স কমপ্লিট করা ছেলেটিই বিসিএসে ফার্স্ট হয়েছে”- এটা শুনে আপনিও কি আপনার কম জিপিএ নিয়ে গর্ব করবেন? “স্কুলের ব্যাকবেঞ্চার মেয়েটি এবার গুগলে চাকরি পেয়েছে “- এটা শুনে কাল থেকেও কি ব্যাকবেঞ্চার হয়ে যাবেন?

অন্ধকার রুমে গিয়ে নিজের গালে নিজে দুইটা কষে থাপ্পড় লাগান। সারাদিন যে একে ওকে দোষারোপ করেন, ভাগ্যকে উঠতে বসতে গালি দেন ভালো কিছু করতে না পারার জন্য৷ You are seriously nonsense, sir. সফল হবেন আপনি, সম্মানিত হবেন আপনি, হ্যান্ডসাম লাইফস্টাইলটাও আপনার হবে৷ কিন্তু কাজটা করে দিবে অন্য কেউ!! ভাগ্য নামক এক অদৃশ্য শক্তি এসে আপনাকে সব করে দিয়ে যাবে? কার এত ঠেকা পড়েছে আপনাকে সফল করার? কেউ কি তার চাকরিটা আপনাকে দিবে? কেউ কি কম্পিটিশনে চ্যাম্পিয়ন হয়ে এওয়ার্ডটা আপনার হাতে তুলে দিবে? তাহলে কেন অযথা আশা করেন কেউ আপনাকে সাহায্য করবে? ব্যাংক একাউন্টটি যদি আপনার নামে হয় তবে অন্য কেউ সেখানে প্রতি মাসে টাকা রেখে আসবেনা।
লাইফটা অনলাইনের মত না; লাইফ পুরোটাই অফলাইনের। অনলাইনের নিউজগুলো আপনাকে দেখাবে কিভাবে চা বিক্রেতা থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়া যায়! কিভাবে ৭০০ টাকা নিয়ে বিজনেস শুরু করে ৭০০ কোটি টাকার মালিক হওয়া যায়! অনলাইন পোর্টালগুলো আপনাকে দেখাবে কোন রিক্সাওয়ালার ছেলে ম্যাজিস্ট্রেট হয়েছে, কোন বিলকিসের ছেলে বিল গেটসকে পেছনে ফেলে বিশ্বের সেরা ধনী হয়েছে। কিন্তু বস, আসল খেলাটাতো হয় অফলাইনে।

“রিক্সাওয়ালার ছেলে ম্যাজিস্ট্রেট হয়েছে ” এর মানে এটা নয়, ম্যাজিস্ট্রেট হতে হলে আপনাকেও রিক্সাওয়ালার ছেলে হতে হবে কিংবা বাকি রিক্সাওয়ালার ছেলেগুলোও ম্যাজিস্ট্রেট হয়ে যাবে। উফঃ বস, থামেন একটু। আমি সত্যজিৎ বিশ্বাস করি, লাইফটা অনলাইনের মত ‘বললাম আর হয়ে গেল’ টাইপের না। লাইফটা অফলাইনের ‘বললাম, করলাম, ঘাম ঝরালাম, হেরে গেলাম, আবার উঠে দাঁড়ালাম, আবার হোঁচট খেলাম, চোখ মুছে কিছুই হয়নি ভেবে আবার শুরু করলাম, আরো বেশি ঘাম ঝরালাম; তবেই হয়ে গেলাম ‘- লাইফটা এই টাইপের।

নরেন্দ্রমোদী চা বিক্রেতা থেকে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন? দেশে লক্ষ লক্ষ চা বিক্রেতার ছেলে চা বিক্রেতাই হয়েছে। বড়জোর কেউ হয়তো একটা ভালো রেস্টুরেন্ট দিয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শুধু ঐ মোদীজী-ই হয়েছেন। বস আসল খেলাটাতো অফলাইনে হয়। অফলাইনের বাস্তবতা আপনাকে যা শিখাবে, অনলাইনের সাধ্য নেই আপনাকে ততটা এগিয়ে নিবে।

জিপিএ ফাইভ পাননি? পাবলিক ভার্সিটিতে চান্স পাননি? ভালো সাবজেক্টে পড়তে পারেননি?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *